সংবাদ :
জাতীয় : জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত- বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই রবিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে ইসলামিক বিশ্ব : আরাফাতে খুতবা দিবেন শায়খ ড. মুহাম্মাদ আবদুল করীম , হজের খুতবা সরাসরি সম্প্রচার হবে বাংলাসহ ১৪ ভাষায় আন্তর্জাতিক : আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জনকারী সালেহ আহমদ তাকরিমকে সংবর্ধনা প্রদান করল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • টেক্সট সাইজ
  • A
  • A
  • A
  • |
  • রং
  • C
  • A
  • A
  • A

জানাযার সালাতের পর দোয়া প্রসংগে আপত্তির জবাব।
প্রিন্ট
প্রকাশঃ : শুক্রবার ১৯/১০/২০১৮

।।  জানাযার পরের দোয়া সংক্রান্ত আপত্তির জবাব।।                                           

فاذا فرغت فانصب অর্থাৎ যখন তুমি অবসর গ্রহন কর তখন মনোনিবেশ কর । সুরা ইনশিরার এ আয়াতের ব্যখ্যায় প্রায় সব তাফসীরের কিতাবেই বলা হয়েছে ফরয নামাজ থেকে ফারিগ হলে দোয়ার মাধ্যমে প্রভূর প্রতি মনোনিবেশ করার কথা । আর জানাযার সালাত যে একটি ফরয ইবাদত একথা সকলের ই জানা । উপরন্ত দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীছে এরশাদ করেন -“উত্তম দোয়া হচ্ছে ফরয নামাজের পরের দোয়া “। সুতরাং জানাযাও ফরয সালাত । যদিও কেফায়া । এর পরের দোয়া ও মু ব্যক্তির জন্য অতীব উপকারী । তাই নবীজি  সাহাবাগন এটা করেছেন । বিগত দিনে আমরা চারটি হাদীস উল্লেখ করেছিলাম । 

আজ আরো কিছু হাদীছ উল্লেখ করে উত্থাপিত আপত্তির জবাব প্রদান করার চেষ্টা করব ।এক হাদীছে আছে- ان النبي صلي الله عليه وسلم صلي علي جنازة فلما فرغ جاء عمر و معه قوم فاراد ان يصلي ثانيا فقال له النبي صلي الله عليه وسلم الصلاة علي الجنازة لا تعاد ولكن ادع للميت واسغفر له অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সালাতে জানাযা পড়েছিলেন । যখন তিনি সালাতে জানাযা থেকে ফারিগ হলেন, তখন হযরত উমর (রাঃ)আসলেন। তাঁর সাথে ছিলেন একটি সম্প্রদায়। তিনি (হযরত উমর) দ্বিতীয়বার সালাতে জানাযা পড়ার ইচ্ছা করেছিলেন । তখন নবীজি ফরমালেন সালাতে জানাযা দ্বিতীয়বার পড়া যায় না । তবে মায়্যিতের জন্য দোয়া কর এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর ।( কিতাবুল বাদাউছ ছানাঈ ২য় খন্ড-৪৭,৪৮) 

দেখুন কত স্পষ্ট ভাষায় জানাযার পরে নবীজি দোয়া করার কথা বললেন । দোয়া করার কথা নবীজি বললেন এমন বিষয় কে একদল আদম সন্তান বেদা’ত বলে । আর নবিজী দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার কথা স্পষ্ট নিষেধ করলেন । নিষেধকৃত দ্বিতীয় বার জানাযা অহরহ ফতওয়াবাজদের  নাকের ডগায় অনুষ্ঠিত হলেও এ ব্যপারে কোন ফত্বওয়া নাই । অনেক ইমান ইসলাম দুনিয়ার কোটি টাকার ধান্ধায় পালটে যেতেও আমরা দেখেছি । মূখে ইসলামের হেফাজতের উষ্ণ বক্তব্য সহজ হলেও কোটি টাকার তেজারতি আর দুনিয়া লাভের ধান্ধার সামনে ঈমান রক্ষা কঠিন । 

আসুন আবার আমরা জানাযার পরের দোয়ার ব্যাপারে আরেকটি হাদীছ দেখুন- عن ابي هريرة رضي الله عنه انه صلي الله عليه وسلم صلي علي المنفوش ثم قال الهم اعذه من عذاب القبر অর্থাৎ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয় রাসূলে পাক সাহেবে লাওলাক এক জানাযার নামাজ আদায় করলেন অতঃপর বললেন –হে আল্লাহ তাকে (মৃত ব্যক্তিকে) কবর আযাব থেকে রক্ষা কর । (ইমাম বায়হাকী সুনানে কুবরা হাদীছ নং- ৬৭৯৩ কানযুল উম্মাল হাদীছ নং- ৪২৮৫৫ ও…৫৮, মারেফাতুস সুনান ওয়য়াল আছার হাদীছ নং- ৭৪১০) 

দেখুন এ হাদীছে ثم শব্দ টি হরফে আত্বফ হওয়ার কারণে স্পষ্ট হয়ে গেল যে দোয়াটি জানাযার পরেই করেছিলেন । সহীহ মুসলিম শরীফের হাদীছে যুবাইর ইবনে নুফাইর বলেন- سمعت عوف ابن مالك يقول صلي رسول الله صلي الله عليه وسلم علي جنازة فحفظت دعاءه الهم اعفرله وارحمه وعافه واعف عنه واكرم نزله
অর্থাৎ আমি আউফ ইবনে মালিক কে বলতে শুনেছি যে রাসূলে খোদা এক জানাযা সালাত আদায় করেছিলেন। তারপরে আমি তাঁর (নবীজির) দোয়া মূখস্থ করে ফেলেছি,তিনি বলছিলেন – হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তাকে রহম কর তার প্রতি করুণা কর এবং তার অবস্থান কে সম্মানিত কর”(সহিহ মুসলিম শরীফ হাদীছ নং ২২৭৬)

এখানে দেখুন নবীজির যে দোয়া বর্ণনা কারী মূখস্থ করেছিলেন তা জানাযার পরে ছিল । কারণ মুসলিম শরিফের উক্ত হাদীছের ব্যখ্যায় শরহে মুসলিমে বলা হয়েছে - ان قوله حفظت من دعاءه اي علمني بعد الصلاة فحفظت অর্থাৎ-“ আমি মূখস্থ করে ফেলেছি কথার অর্থ হল আমাকে জানাযার সালাতের পর দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন বিধায় আমি মূখস্থ করে ফেলেছি” । (ইমাম নববী শরহে মুসলিম ৮ম খন্ড-৭৫ পৃঃ) তাহলে দোয়া কখন হল জানাযার পর না  ভিতরে ? অবশ্য ই পরে ।কাজেই জানাযার পরে দোয়া করেছেন নবিজি ।

সাহাবী গণের আমলে জানাযার পরে দোয়া করার প্রমান মিলে।বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) জানাযার পরে দোয়া করেছেন মর্মে সহিহ রেওয়ায়েত পাওয়া যায় । যেমন-عن عبيد الله بن عمر عن نافع قال كان ابن عمر اذا انتهي الي جنازة وقد صلي عليها دعا وانصرف ولم يعد الصلاة অর্থাৎ- উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর হজরত নাফে (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন-ইবনে উমর (রাঃ) জানাযার উদ্দেশ্যে বের হতেন তখন জানাযা না পেলে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা করতেন ,কিন্তু দ্বিতীয় বার জানাযার সালাত পড়তেন না । (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীছ নং- ৬৫৪৫)

অনুরূপ মাওলা আলী কাররামুল্লাহু ওয়াজহাহু (রাঃ) সালাতে জানাযার পর দোয়া করেছেন । (সুনানে কুবরা হাদীছ নং-৬৯৯৬)এভাবে আরো অনেক হাদীছ রয়েছে যেখানে দেখা যায় –হযরত উমর , আব্দুল্লাহ ইবনে উমর,হযরত ইবনে আব্বাস এর মত ফক্বিহ সাহাবীগণ জানাযার সালাতের পর দোয়া করেছেন । 

ফক্বিহ গণের ভাষ্য হল -قال ابو حنيفة والثوري ان التعزية سنة قبل الدفن لا بعده لان شدة الحزن تكون قبل الدفن فيعزي ويدعوا له অর্থাৎ- ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম সুফিয়ান সওরী (রাঃ) বলেন- দাপনের পূর্বে শোক প্রকাশ করা সুন্নাত, পরে নয় । কারণ দাপনের পূর্বেই কঠিন পেরেশানী থাকে। সুতরাং দাপনের আগে শোক প্রকাশ করবেন ও মায়্যিতের জন্য দোয়া করবেন। (ইমাম শায়রানী মিযানুল কুবরা ১ম খন্ড-১৫৩)

দেওবন্দের ফত্বয়ায়ে দারুল উলুমের মাসআলাঃ প্রশ্ন – জানাযা নামাজের পর সূরা ফাতেহা একবার ও সূরা ইখলাছ ৩বার পড়ে দোয়া করা কিরূপ ? উত্তরঃ-এতে কোন অসুবিধা নাই । (ফতওয়ায়ে দেওবন্দ ৫ম খন্ড-৪১৮ পৃঃ) এবার বলুন এতগুলো হাদীছ থাকার পরেও যারা হাদীছ গুলোর আলোকে রচিত পোস্টকে বাজে বলেন আর তকি উসমানীর ফতওয়া দেখান ,তারা ফত্বয়ায়ে দেওবন্দের ফতওয়ার ব্যপারে কি বলবেন? 
বায়তুল মোকাররামের সাবেক খতিব ঢাকা আলীয়া মাদরাসার প্রিস্নিপাল,মুফতিয়ে আযম আল্লামা আমীমুল ইহসান মোজাদ্দেদী বরকতি আলাইহির রহমাত বলেন – জানাযার পর দোয়া করা একটি বিরাট উত্তম কাজ। (হাদীয়াতুল মুসাল্লিন) মুফতি আমীমুল ইহসান বরকতি থেকেও বেশী সমজদার হয়ে গেছেন?

এবার আসুন শারিহে বোখারী আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী বলেন -وقال الكرماني عرض البخاري بيان جواز اطلاق الصلاة علي صلاة الجنازة وكونها مشروعة وان لم تكن ذات الركوع والسجود فاستدل عليه تارة باطلاق اسم الصلاة عليه অর্থাৎ- আল্লামা কিরমানী বলেন ইমাম বুখারী (রাঃ) অত্র অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমান করেন যে ,সালাতুল জানাযাকে নবী পাক (দরূদ) সালাত (নামাজ) বলে আখ্যায়িত করেছেন । যদিও ইহাতে রুকু সিজদা নাই । অতঃপর ইহাকে নামাজ প্রমাণ করার জন্য নবীজি সাহাবীগণকে বলেছেন “নামাজ পড়” ।(ইমাম আইনী শরহে বোখারী ৮ম খন্ড-১২২ পৃঃ) সুতরাং জানাযার সালাত এটা নামাজ । যদিও ভিতরে দোয়া আছে । জানাযার নিয়ত এভাবে বলতে হয়- نية صلاة الجنازة ان يقول الهم اني نويت ان اصلي لك.. জানাযার নিয়ত হচ্ছে মুসল্লী বলবে –হে আল্লাহ আমি তোমার জন্য সালাতের (নামাজের ) নিয়ত করছি ।(ফতওয়ায়ে ছেরাজিয়া ২২পৃঃ)

সুতরাং কোন ব্যক্তির কথায় রাসূলের কথাকে বাদ দেয়া যাবে কি? অবশ্য ই না । যেমনটি ফতওয়ার কিতাব মুহিতে বুরহানীতে বলা হয়েছে ।لا يقوم الرجل بالدعاء بعد صلاة الجنازة لانه قد دعا مرة অর্থাৎ- জানাযার সালাতের পর দোয়ায় লোক দাঁড়াবে না ।কেননা তার জন্য একবার দোয়া হয়েছে ।
মুহিতে বুরহানীর কথায় সালাত শব্দ আছে । একবার সালাতের ভিতরে দোয়া আছে বলে আর দোয়া করা যাবে না কথাটি হাদীছের সাথে সংগতি পূর্ণ নয় । আর না  দাঁড়িয়ে দোয়া করলে কোন সমস্যা থাকে না ।

আল্লামা মোল্লা আলী কারী (রাহঃ) বলেছেন দোয়া না করতে কারণ এটা জানাযার সাদৃশ্য হয়ে যায় । তাই আমরা জানাযার সালাতের কাতার ভংগ করে হাদীছের আমল করব । দোয়া করব। 

আবার প্রশ্ন আসতে পারে বর্ণিত হাদীছ গুলো যয়ীফ (যদিও যয়ীফ না)তখন তাদের জবাবে বলব قال ابو محمد بن حزم جميع الحنفية يجمعون علي ان مذهب ابي حنيفة ان ضعيف الحديث اولي عنده من القياس والراي অর্থাৎ- আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেছেন সকল হানাফিরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নিশ্চয় জয়ীফ হাদীছ আমলের ক্ষেত্রে কিয়াস ও রায় হতে উত্তম । সুতরাং ব্যক্তির কথা থেকে হাদীছ কে মূল্যায়ন করে ই আমরা জানাযার পরে দোয়া করে থাকি ।আপনি না করলে বিরোধীতা করার অধিকার শরীয়ত আপনাকে দেয় নাই ।

১৩৭৪

কোন তথ্যসূত্র নেই

আপনার জন্য প্রস্তাবিত

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

To preach and propagate the values and ideals of Islam, the only complete code of life acceptable to the Almighty Allah, in its right perspective as a religion of humanity, tolerance and universal brotherhood and bring the majority people of Bangladesh under the banner of Islam

অফিসিয়াল ঠিকানা: অফিসিয়াল ঠিকানা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, আগারগাঁও, শের-এ- বাংলা নগর, ঢাকা -১২০৭