সংবাদ :
জাতীয় : জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত- বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই রবিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে ইসলামিক বিশ্ব : আরাফাতে খুতবা দিবেন শায়খ ড. মুহাম্মাদ আবদুল করীম , হজের খুতবা সরাসরি সম্প্রচার হবে বাংলাসহ ১৪ ভাষায় আন্তর্জাতিক : আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জনকারী সালেহ আহমদ তাকরিমকে সংবর্ধনা প্রদান করল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • টেক্সট সাইজ
  • A
  • A
  • A
  • |
  • রং
  • C
  • A
  • A
  • A

মাহরাম পুরুষ কারা; যাদের সামনে নারীর পর্দা করতে হয় না
প্রিন্ট
প্রকাশঃ : বৃহস্পতিবার ২৪/০১/২০১৯

মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর পর্দা না করা জায়েয। নারীর জন্য মাহরাম হচ্ছে ঐসব পুরুষ যাদের সাথে উক্ত নারীর বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে হারাম; সেটা ঘনিষ্ট আত্মীয়তার কারণে। যেমন পিতা, যত উপরের স্তরে হোক না কেন। সন্তান, যত নীচের স্তরের হোক না কেন। চাচাগণ। মামাগণ। ভাই। ভাই এর ছেলে। বোনের ছেলে। কিংবা দুধ পানের কারণে। যেমন- নারীর দুধ ভাই। দুধ-মা এর স্বামী। কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে। যেমন- মা এর স্বামী। স্বামীর পিতা, যত উপরের স্তরের হোক না কেন। স্বামীর সন্তান, যত নীচের স্তরের হোক না কেন। নীচে বিস্তারিতভাবে মোহরেমের পরিচয় তুলে ধরা হল: রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে যারা মাহরাম তাদের কথা সূরা নূর এ আল্লাহ্‌র এ বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: “তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়াস্বামী, বাপ, স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে...।[সূরা নূর, আয়াত: ৩১] তাফসিরকারকগণ বলেন: নারীর রক্ত সম্পর্কীয় মাহরাম পুরুষগণ হচ্ছেন- এ আয়াতে যাদেরকে উল্লেখ করা হয়েছে কিংবা এ আয়াতে যাদের ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে; তারা হচ্ছে- এক: পিতাগণ। অর্থাৎ নারীর পিতাগণ, যত উপরের স্তরের হোক না কেন। সেটা বাপের দিক থেকে হোক কিংবা মায়ের দিক থেকে হোক। অর্থাৎ পিতাদের পিতারা হোক, কিংবা মাতাদের পিতারা হোক। তবে, স্বামীদের পিতাগণ বৈবাহিক সম্পর্কের দিক থেকে মাহরাম হবে, এ ব্যাপারে একটু পরে আলোচনা করা হবে। দুই: ছেলেরা। অর্থাৎ নারীর ছেলেরা। এদের মধ্যে সন্তানের সন্তানেরা অন্তর্ভুক্ত হবে, যত নীচের স্তরের হোক না কেন, সেটা ছেলের দিক থেকে হোক, কিংবা মেয়ের দিক থেকে হোক। অর্থাৎ ছেলের ছেলেরা হোক কিংবা মেয়ের ছেলেরা হোক। পক্ষান্তরে, স্বামীর ছেলেরা: আয়াতে তাদেরকে ‘স্বামীর অন্য স্ত্রীর ছেলে’ বলা হয়েছে; তারা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম হবে; রক্ত সম্পর্কের কারণে নয়। একটু পরেই আমরা সেটা বর্ণনা করব। তিন: নারীর ভাই। সহোদর ভাই হোক; কিংবা বৈমাত্রেয় ভাই হোক; কিংবা বৈপিত্রীয় ভাই হোক। চার: ভ্রাতৃপুত্রগণ; যত নীচের স্তরের হোক না কেন, ছেলের দিক থেকে কিংবা মেয়ের দিক থেকে। যেমন- বোনের মেয়েদের ছেলেরা। পাঁচ: চাচা ও মামা। এ দুই শ্রেণী রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় হিসেবে মাহরাম। কিন্তু, উল্লেখিত আয়াতে তাদেরকে উল্লেখ করা হয়নি। কেননা তারা পিতামাতার মর্যাদায়। মানুষের কাছেও তারা পিতামাতার পর্যায়ভুক্ত। চাচাকে কখনও কখনও পিতাও বলা হয়। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৩৩] ইসমাঈল (আঃ) ইয়াকুব (আঃ) এর সন্তানদের চাচা ছিলেন। [তাফসির আল-রাযি (২৩/২০৬), তাফসির আল-কুরতুবী (১২/২৩২, ২৩৩), তাফসির আল-আলুসি (১৮/১৪৩), ফাতহুল বায়ান ফি মাকাসিদ আল-কুরআন (৬/৩৫২)] দুধ পানের কারণে যারা মাহরাম: নারীর মাহরাম কখনও দুধ পানের কারণে সাব্যস্ত হতে পারে। তাফসিরে আলুসিতে এসেছে, যে মোহরেমের সামনে নারীর সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ সে মাহরাম রক্ত সম্পর্কের কারণে যেমন সাব্যস্ত হয় আবার দুধ পানের কারণেও সাব্যস্ত হয়। তাই, নারীর জন্যে তার দুধ পিতা ও দুধ সন্তান এর সামনে সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ।[তাফসিরে আলুসি (১৮/১৪৩)] কেননা দুধ পান এর কারণে যারা মাহরাম হয় তারা রক্ত সম্পর্কীয় মোহরেমের ন্যায়; এদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে নিষিদ্ধ। পূর্বোক্ত এই আয়াতটির তাফসির করাকালে ইমাম জাস্‌সাস এ দিকে ইশারা করে বলেন: “আল্লাহ্‌ তাআলা যখন পিতৃবর্গের সাথে সেসব মাহরামদেরও উল্লেখ করলেন যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন চিরতরে হারাম এতে করে এ প্রমাণ পাওয়া গেল যে, মাহরাম হওয়ার ক্ষেত্রে যে তাদের পর্যায়ে তার হুকুম তাদের হুকুমের মতই। যেমন- শাশুড়ি ও দুধ পান সম্পর্কীয় মাহরামবর্গ প্রমুখ।[আহকামুল কুরআন (৩/৩১৭)] রক্ত সম্পর্কীয় কারণে যারা যারা মাহরাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কীয় কারণে তারা তারাই মাহরাম হয়: হাদিসে এসেছে, রক্ত সম্পর্কীয় কারণে যারা যারা মাহরাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কীয় কারণে তারা তারাই মাহরাম হয়। এ হাদিসের অর্থ হল, বংশীয় সম্পর্কের কারণে যেমন কিছু লোক নারীর মাহরাম হয়; তেমনি দুগ্ধ সম্পর্কীয় কারণেও কিছু লোক নারীর মাহরাম হয়। সহিহ বুখারীতে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর আবু কুয়াইস এর ভাই আফলাহ একবার আয়েশা (রাঃ) এর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইল; তিনি হচ্ছেন- আয়েশা (রাঃ) এর দুধ চাচা। কিন্তু, আয়েশা (রাঃ) অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। যখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন তখন আয়েশা (রাঃ) বিষয়টি জানালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অনুমিত দেয়ার নির্দেশ দেন।[সহিহ বুখারী শরহে কুসতুল্লানিসহ ৯/১৫০; ইমাম মুসলিমও এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। সহিহ মুসলিমের ভাষায় “উরউয়া (রাঃ) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে জানিয়েছেন যে, একবার তার দুধ চাচা ‘আফলাহ’ তার সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু, তিনি তাকে বারণ করলেন। পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন: তার থেকে পর্দা করতে হবে না। কারণ রক্ত সম্পর্কের কারণে যে সব আত্মীয় মাহরাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কের কারণেও সেসব আত্মীয় মাহরাম হয়।[সহিহ মুসলিম বি শারহিন নাবাবি ১০/২২] নারীর দুগ্ধ সম্পর্কীয় আত্মীয় রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের মত: ফিকাহবিদগণ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে স্পষ্টাভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুগ্ধপানের কারণে যারা কোন নারীর মাহরাম হয় তারা রক্ত সম্পর্কীয় মাহরামদের ন্যায়। তাই দুগ্ধ সম্পর্কীয় আত্মীয়দের কাছে সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ; ঠিক যেভাবে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের কাছে সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ। সে সব মোহরেমের জন্য উক্ত মহিলার ঐ সব অঙ্গ দেখা জায়েয আছে রক্ত সম্পর্কীয় মোহরেমের জন্য যা কিছু দেখা জায়েয আছে। বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যারা মাহরাম হয়: বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে সেসব পুরুষ মাহরাম হয় যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ। যেমন, বাপের স্ত্রী, ছেলের বউ, স্ত্রীর মা।[শারহুল মুন্তাহা ৩/৭] অতএব, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যারা মাহরাম হবে: পিতার স্ত্রীর ক্ষেত্রে সে হবে এ নারীর অন্য ঘরের সন্তান। সন্তানের স্ত্রী যেহেতু তিনি পিতা। স্ত্রীর মা, যেহেতু তিনি স্বামী। আল্লাহ্‌ তাআলা সূরা আল-নূর এ বলেন: “আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র... ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে”[সূরা নূর, আয়াত: ৩১] শ্বশুর, স্বামীর পুত্র বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে মাহরাম। আল্লাহ্‌ তাআলা এ শ্রেণীকে নারীর নিজের পিতা ও পুত্রের সাথে উল্লেখ করেছে এবং সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সমান বিধান দিয়েছেন।[আল-মুগনী (৬/৫৫৫)]

৪৭০৯

কোন তথ্যসূত্র নেই

আপনার জন্য প্রস্তাবিত

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

To preach and propagate the values and ideals of Islam, the only complete code of life acceptable to the Almighty Allah, in its right perspective as a religion of humanity, tolerance and universal brotherhood and bring the majority people of Bangladesh under the banner of Islam

অফিসিয়াল ঠিকানা: অফিসিয়াল ঠিকানা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, আগারগাঁও, শের-এ- বাংলা নগর, ঢাকা -১২০৭