সংবাদ :
জাতীয় : জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত- বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই রবিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে ইসলামিক বিশ্ব : আরাফাতে খুতবা দিবেন শায়খ ড. মুহাম্মাদ আবদুল করীম , হজের খুতবা সরাসরি সম্প্রচার হবে বাংলাসহ ১৪ ভাষায় আন্তর্জাতিক : আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জনকারী সালেহ আহমদ তাকরিমকে সংবর্ধনা প্রদান করল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • টেক্সট সাইজ
  • A
  • A
  • A
  • |
  • রং
  • C
  • A
  • A
  • A

হযরত ইদরিস (আঃ)-এর মৃত্যু ও বেহেশতে গমন
প্রিন্ট
প্রকাশঃ : মঙ্গলবার ২৩/১০/২০১৮

 

স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ ‍:

এক আগন্তুক ব্যক্তি তিনদিন পর্যন্ত হযরত ইদরিস (আঃ) এর সাহচর্যে থাকলেন। তার আচরণাদি লক্ষ্য করে হযরত ইদরিস (আঃ)-এর মনে সন্দেহের উদ্রেক হলো যে, এ ব্যক্তি নিশ্চয় কোন মানুষ নয়। অতএব তিনি বললেন, আল্লাহর কসম আপনি আপনার প্রকৃত পরিচয়টা বলুন। আগন্তুক বলল, আমি কোন মানুষ নয়। আমি একজন ফেরেশতা। আমার নাম মালাকুল-মওত আজরাঈল।

হযরত ইদরিস (আঃ) বললেন, ‘আপনিই কি দুনিয়ার যাবতীয় প্রাণীর জান কবজ করিয়া থাকেন?’ মালাকুল-মওত বললেনঃ হাঁ।

হযরত ইদরিস (আঃ) বললেন, ‘তবে মনে হয় আপনি আমার জান কবজ করতেই এসেছেন’।

মালাকুল-মওত বললেন, ‘না, আপনার সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করতে এসেছি। আমার একান্ত বাসনা আপনিও আমার এ প্রস্তাবে রাজী হবেন’।

হযরত ইদরিস (আঃ) বললেন, ‘আমি আপনার সাথে এক শর্তে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করতে রাজী যদি আপনি আমাকে একবার মৃত্যুর অবস্থাটা উপভোগ করান। যদি আপনি আমাকে এখনই একবার মৃত্যুর অবস্থাটা উপভোগ করান তাহলে আমার অনেক উপকার হতো। মৃত্যুর ভয়ে আমি বেশি করে আল্লাহর ইবাদত করতে পারতাম।’

মালাকুল-মওত বললেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আমি একাজ করতে পারিনা। আল্লাহ এখনো আপনার জান কবজ করার হুকুম আমাকে দেননি।’

হযরত ইদরিস (আঃ) বললেন, ‘আপনি আল্লাহর নিকট হতে অনুমতি চেয়ে নিন।’

মালাকুল-মওত আল্লাহর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাঁকে অনুমতি দেন। অনুমতি পেয়ে মালাকুল-মওত হযরত ইদরিস (আঃ) এর জান কবজ করলেন। জান কবজ করার পর মালাকুল-মওত আজরাঈল (আঃ) পুনঃরায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন হযরত ইদরিস (আঃ) এর জান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন।

অতঃপর ফেরেশতা আজরাঈল (আঃ) হযরত ইদরিস (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভাই ইদরিস! জান কবজ করার সময় আপনার কিরূপ লেগেছিল?’

হযরত ইদরিস (আঃ) বললেন, ‘কোন জীবিত প্রাণীর শরীরের চামড়া মাথা হতে পা পর্যন্ত খসে তুলে ফেললে প্রাণীটির যে রূপ কষ্ট হয় আমারও সেরূপ কষ্ট হয়েছে।’

মালাকুল-মওত বললেন, ‘ভাই ইদরিস! আমি আজ পর্যন্ত যত জান কবজ করেছি এত সহজে কারো জান কবজ করিনি।’

 

কৌশলে বেহেশতে গমন ‍: হযরত ইদরিস (আঃ) হযরত আজরাঈল (আঃ) কে বললেন, ‘আমার মনে দোজখ দেখার খুব স্বাদ জেগেছে। যদি আপনি আমাকে দোজখ দেখাতেন তবে আমি দোজখের ভয়ে ইবাদত-বন্দেগীতে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারতাম।

মালাকুল-মওত তাঁকে দোজখ দেখাতে দোজখের দরজায় নিয়ে গেলেন। তিনি দোজখ দেখার পর বললেন, ‘ভাই আজরাঈল! আমার মনে বেহেশত দেখার বড়ই স্বাদ জেগেছে। যদি আপনি আমার এই স্বাদটি পূর্ণ করতেন তাহলে আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম।’

মালাকুল-মওত বললেন, ‘যদি আপনি আমাকে কথা দেন যে বেহেশত দেখেই আপনি আমার নিকট ফিরে আসবেন তাহলে আমি আপনাকে বেহেশত দেখাতে পারি।’

হযরত ইদরিস (আঃ) তাতে রাজী হলে মালাকুল-মওত তাঁকে বেহেশত দেখাতে নিয়ে গেল। বেহেশতের দরজায় আসলে হযরত ইদরিস (আঃ) তাঁর পায়ের জুতা খুলে বেহেশতে প্রবেশ করলেন। তিনি কিছু সময় বেহেশতে ঘুরাফেরা করলেন। এরপর তিনি মালাকুল-মওতের কাছে ফিরে এসে নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন। পরক্ষণেই তিনি এক দৌঁড়ে আবার বেহেশতে ঢুকে গেলেন। মালাকুল-মওত তাঁকে ডেকে বলল, ‘ভাই ইদরিস! আপনি আবার বেহেশতে ঢুকলেন কেন? তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসুন। আমি আপনাকে আবার পৃথিবীতে পৌঁছে দেব।’

হযরত ইদরিস (আঃ) বেহেশতের ভিতর থেকে জবাব দিলেন, ‘ভাই আজরাঈল! আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক প্রাণীই একবার মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং একবার দোজখ না দেখে কেউ বেহেশতে যেতে পারবেনা। আমি তো একবার মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করলাম এবং দোজখও দেখলাম। তারপর বেহেশত হতে বের হয়ে আপনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করলাম। অতএব এখন আমি আর বেহেশত হতে বের হবো না। আপনি আপনার কাজে চলে যেতে পারেন।’

মালাকুল-মওত হযরত ইদরিস (আঃ) এর জবাব শুনে কর্তব্য স্থির করতে না পেরে দাঁড়িয়ে রইলেন।

আল্লাহ তা’আলা তখন হযরত আজরাঈল (আঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আজরাঈল! ইদরিসকে বেহেশতে থাকতে দাও। তাঁর ভাগ্যে আমি এরূপ ঘটনায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলাম। অতঃপর হযরত ইদরিস (আঃ) মহাসুখে বেহেশতে বসবাস করতে লাগলেন।

 

২৭৩৩

কোন তথ্যসূত্র নেই

আপনার জন্য প্রস্তাবিত

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

To preach and propagate the values and ideals of Islam, the only complete code of life acceptable to the Almighty Allah, in its right perspective as a religion of humanity, tolerance and universal brotherhood and bring the majority people of Bangladesh under the banner of Islam

অফিসিয়াল ঠিকানা: অফিসিয়াল ঠিকানা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, আগারগাঁও, শের-এ- বাংলা নগর, ঢাকা -১২০৭